রবিবার২৫শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ১৫ই শাবান, ১৪৪৫ হিজরি১২ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

কনডেম সেলে ২০ বছর, অবশেষে মুক্ত স্ত্রী–সন্তান খুনের দায় থেকে

বাংলা সংবাদ২৪ ডেস্ক– ফাঁসির আদেশ প্রাপ্ত শেখ জাহিদ স্ত্রী-সন্তানকে খুনের দায়ে প্রায় বছর ধরে ছিলেন কারাগারের কনডেম সেলে। অবশেষে সেই খুনের দায় থেকে মুক্ত হলেন তিনি। ওই হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে পেশায় মাছ ব্যবসায়ী শেখ জাহিদের করা জেল আপিল মঞ্জুর করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন ছয় সদস্যের আপিল বেঞ্চ এই রায় দেন।

আদালতে শেখ জাহিদের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী সারোয়ার আহমেদ। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যার্টনি জেনারেল বিশ্বজিৎ দেবনাথ। শুনানি শেষে সারোয়ার আহমেদ বলেন, শেখ জাহিদের বিরুদ্ধে অপরাধ সন্দেহাতীত ভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় আপিল বিভাগ তাকে খালাস দিয়েছেন। তিনি প্রায় ২০ বছর ধরে কনডেম সেলে রয়েছেন। আপিল মঞ্জুর হওয়ায় তার কারামুক্তিতে বাধা নেই।রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বিশ্বজিৎ দেবনাথ বলেন, পূর্ণাঙ্গ রায়ের অনুলিপি পেয়ে তা পর্যালোচনা করে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

শেখ জাহিদের সারোয়ার আহমেদ জানান, শেখ জাহিদের স্ত্রী রহিমা ও তার দেড় বছরের মেয়ে রেশমা ১৯৯৭ সালের ১৫ জানুয়ারি রাতে বাগেরহাটের ফকিরহাট থানার উত্তরপাড়া এলাকার ভাড়া বাসায় খুন হয়।এরপরের দিন নিহত রহিমার বাবা ময়েন উদ্দিন বাদী হয়ে শেখ জাহিদের বিরুদ্ধে ফকিরহাট থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় সাতবার তদন্ত কর্মকর্তার পরিবর্তন হয়।

তদন্ত শেষে ১৯৯৮ সালের ১৯ নভেম্বর জাহিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন অষ্টম তদন্ত কর্মকর্তা।মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০০০ সালের ২৫ জুনও ই মামলায় রায় দেন বাগেরহাটের দায়রা জজ আদালত।রায়ে জাহিদের মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত। তার আগে ১৯৯৮ সালের ১৮ জানুয়ারি বিচারিক আদালতে আতœসমর্পণ করেন শেখ জাহিদ। স্বাস্থ্যগত দিক বিবেচনায় ১৯৯৯ সালের ২০ জুন জামিন পান জাহিদ।

পরবর্তীতে মামলায় গড় হাজির থাকলে জাহিদের অনুপস্থিতিতে সাজার রায় হয়। এরপর জাহিদ ফের কারাগারে যান। কারাগারে থেকে ২০০০ সালের ২ সেপ্টেম্বর বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে জেল আপিল করেন জাহিদ। এরপর ডেথরেফারেন্স ও আসামির করা জেল আপিলের শুনানি নিয়ে ২০০৪ সালের ৩১ জুলাই রায় দেন হাইকোর্ট। রায়ে জাহিদের মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকে। হাইকোর্টের এই রায়ের বিরুদ্ধে ২০০৪ সালের ২৯ ডিসেম্বর জেল আপিল করেন জাহিদ। আজ মঙ্গলবার রায় দিলেন আপিল বিভাগ এর ধারাবাহিকতায় আপিলের ওপর ।