বুধবার২৪শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ১৮ই মহর্‌রম, ১৪৪৬ হিজরি৯ই শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

জিপিএ ৪.৫৭ পেলেন পা দিয়ে লিখে

হাবিবুর রহমান হাবিব। সংগৃহীত ছবি।

হাবিবুর রহমান হাবিব শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে হার মানিয়ে আলিম পরীক্ষায় পা দিয়ে লিখে জিপিএ ৪ দশমিক ৫৭ পেয়েছেন । আজ (বুধবার) দুপুর ১টায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন পাংশা উপজেলার পুঁইজোর সিদ্দিকিয়া ফাজিল (ডিগ্রী) মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সাঈদ আহম্মেদ।”

;হাবিব রাজবাড়ী কালুখালী উপজেলার মৃগী ইউনিয়নের হিমায়েতখালি গ্রামের কৃষক আব্দুস সামাদের ছেলে। তিনি পাংশা উপজেলার পুঁইজোর সিদ্দিকিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসা থেকে এবার আলিম (এইচএসসি) পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হন।”

;খোঁজ নিয়ে জানা যায়- দরিদ্র কৃষক পরিবারের সন্তান হাবিবুর রহমান। চার ভাই বোনের মধ্যে তৃতীয় হাবিব। দুই বোনের বিয়ে হলেও পরিবারে আছে ছোট বোন। সেও পড়াশোনা করছে।”

;জন্মলগ্ন থেকেই হাবিবের দুই হাত নেই। ছোট বেলায় বাবা-মা, চাচা ও পরিবারের অন্যদের অনুপ্রেরণায় পা দিয়ে লেখার অভ্যাস করেন হাবিব।কালুখালী উপজেলার মৃগী ইউনিয়নের হিমায়েতখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পা দিয়ে লিখে পিএসসি পরীক্ষায় ৪ দশমিক ৬৭ পেয়ে পাস করেন। পরে পুঁইজোর সিদ্দিকিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসা থেকে জেডিসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে ৪ দশমিক ৬১ পেয়ে পাস করেন।”

;একই মাদ্রাসা থেকে ২০১৯ সালে দাখিল (এসএসসি) পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পান জিপিএ ৪ দশমিক ৬৩। এরপর শিক্ষক ও বিভিন্ন জনের সহযোগিতা আলিমে ভর্তি হন তিনি।”

;হাবিবুর রহমান বলেন-পা দিয়ে লিখে খুব কষ্ট করে পড়াশোনা করেছি। ছোট বেলা থেকেই পা দিয়ে লেখার অভ্যাস আমার। দাখিল পরীক্ষার পর মাদ্রাসার শিক্ষক ও স্থানীয় প্রতিনিধিদের সহযোগিতায় পড়াশোনা চালিয়েছি। আলিম পরীক্ষায় আশা ছিল জিপিএ ৫ পাব। কিন্তু পেলাম ৪ দশমিক ৫৭। তারপরও আমি খুশি।”

;এখন আমার লক্ষ্য ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার। এ জন্য সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। পড়াশোনা করে প্রতিবন্ধকতাকে হার মানিয়ে জীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে চাই।”

;পুঁইজোর সিদ্দিকিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সাঈদ আহম্মেদ জানান- দরিদ্র পরিবারের সন্তান হাবিব। তবে সে অত্যন্ত মেধাবী। ফলে প্রতিবন্ধকতাকে হার মানিয়ে এবারের আলিম পরীক্ষায় জিপিএ ৪ দশমিক ৫৭ পেয়েছে। পা দিয়ে লিখে এ রকম ফলাফল অর্জন করা সত্যিই কষ্টসাধ্য।