সোমবার৩০শে জানুয়ারি, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ৮ই রজব, ১৪৪৪ হিজরি১৬ই মাঘ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

এমপি ফারুক নিজেই মেরেছেন অধ্যক্ষ সেলিম রেজাকে

জেলা প্রতিনিধি–

সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরীর হাতেই অধ্যক্ষ মো. সেলিম রেজা মারধরের শিকার হয়েছেন দাবি করে ঘটনার বিবরণ দিয়ে একটি ধারণকৃত অডিও রেকর্ড প্রকাশ করেছেন রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান।”
;আজ শনিবার রাজশাহী নগরের লক্ষ্মীপুর এলাকায় জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি সাংবাদিকদের ওই অডিও রেকর্ডটি শোনান “

;আসাদুজ্জামানের দাবি, ঘটনার পর অধ্যক্ষ সেলিম রেজা আওয়ামী লীগের কোন এক নেতার সাথে ফোনে যেসব বলেছেন অডিওতে সেসব কথাই রয়েছে। এর আগে, গত ৭ জুলাই রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) আসনের সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরীর হাতে গোদাগাড়ী উপজেলার রাজাবাড়ি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মো. সেলিম রেজার মার খাওয়ার অভিযোগ ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত বৃহস্পতিবার অধ্যক্ষ সেলিম রেজাকে পাশে বসিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন এমপি ওমর ফারুক চৌধুরী।”

;সংবাদ সম্মেলনে মার খাওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেন অধ্যক্ষ সেলিম রেজা। অন্যদিকে-অধ্যক্ষকে মারপিটের অভিযোগ অস্বীকার করে অপপ্রচারের অভিযোগ তুলে এমপি ওমর ফারুক বলেন- এর পেছনে আওয়ামী লীগ নেতা আসাদুজ্জামান আসাদের ইন্ধন রয়েছে। অভিযোগের জবাব দিতে শনিবার আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আসাদুজ্জামান আসাদ দাবি করেন- অধ্যক্ষ সেলিম রেজাকে এমপি ফারুক চৌধুরী নিজেই মেরেছেন। প্রমাণ হিসেবে একটি ওডিও শোনান “

;পাশাপাশি এমপি ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগও তুলে ধরেন আসাদ।আসাদ বলেন, এমপির হাতে মারধরের শিকার হয়ে অধ্যক্ষ সেলিম রেজা তাকে ফোন করে বিষয়টি জানিয়েছিলেন। তার শরীরের আঘাতের ক্ষতও দেখিয়েছেন অধ্যক্ষ। এ সময় তিনি এক ব্যক্তির সঙ্গে অধ্যক্ষের কথোপকথনের অডিও রেকর্ড বাজিয়ে সাংবাদিকদের শোনান। কার সঙ্গে এই কথা হচ্ছে জানতে চাইলে আসাদ বলেন-সেটা এখন বলছি না।”

;অডিওতে শোনা যায়- অধ্যক্ষ সেলিম রেজা অন্যজনকে বলছেন, সেদিন এমপির অফিসে যাওয়ার জন্য অধ্যক্ষ আবদুল আউয়াল রাজু অন্য অধ্যক্ষদের ডেকেছিলেন। যার সঙ্গে কথোপকথন সেই ব্যক্তি অধ্যক্ষকে প্রশ্ন করেন, তারপরে আপনি গেলেন? অধ্যক্ষ বলেন-হ্যাঁ গেলাম। আমি তো এমনি যাই না, ডাকলে যাই। অন্যরা সাত দিনের তিন দিনই দেখা করে। আমি আর চব্বিশনগরের প্রিন্সিপাল হাবিব ভাই না ডাকলে, কোন মিটিং না হলে যাই না।”

;এটাও আবার রাগ। সেদিনও আমি আর হাবিব ভাই একসঙ্গে গেছি। এই দুইটা লোক ছাড়া ভাই সবাই ওর (এমপির) পা চাটা।অন্য ব্যক্তি প্রশ্ন করেন, ওখানে যাওয়ার পরে? অধ্যক্ষ বলেন-ওখানে যাওয়ার পরে বিড়ইলের মজিবর ছিল। ওই যে স্কুল এমপিওভুক্ত হলো। ওরা ফুল-টুল নিয়ে গেছে। ওখানে সেক্রেটারি রশিদ ভাই (গোদাগাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুর রশিদ) ছিল। ওরা বেরিয়ে আসল। আমরা বসে ছিলাম। ৫-৭ মিনিট। তারপরে রশিদ ভাইয়ের সাথে হ্যান্ডশেক হলো। কথাবার্তা হলো। ওটা ওমর প্লাজার পূর্বপারে।”

;তখন রাজু এসে বলছে, এই এমপি উঠে যাবে। ঢোকেন, ঢোকেন, ঢোকেন। সব ঢুকে গেলাম। ঢুকতেই প্রথম কথা। আমাকে বলছে- সেলিম, তোমার কলেজে কী হয়েছে? আমি বলছি, কই স্যার? কিছু তো হয়নি। তখনই গালি … তোর অফিসে বসে আমার নামে, রাজুর পরিবার নিয়ে, আমার চরিত্র নিয়ে কথা বলিস, টিচাররা কথা বলে। তুই আমাকে না বলে, ওই টিচারদের বিচার না করে… এই উঠে এসেই মনে করেন যে কিল, ঘুষি লাথি।”

;অধ্যক্ষ বলেন-বারবার উঠছে-বসছে, মারছে। হকিস্টিক ডেকে নিয়ে আসছে। পর্দা টেনে দিল। প্রিন্সিপালকে দিয়েই পর্দা টানাইছে। রাজু পর্দা টেনে দিল। দিয়ে বলছে, এই হকিস্টিক নিয়ে আয়। শালাকে হকিস্টিক দিয়ে মেরেই ফেলব। শালাকে আজ মেরেই ফেলব, শালা আমার বিরুদ্ধে কথা বলে।”

;এদিকে- ওডিও রেকর্ডের বিষয়ে বিষয়ে কথা বলতে অধ্যক্ষ সেলিম রেজাকে একাধিকবার ফোন করা হলে তিনি কল কেটে দেন। দুপুরে তার মোবাইল নম্বরটি বন্ধ পাওয়া গেছে। বিকেলেও তার ফোন নম্বর বন্ধ পাওয়া গেছে।;