শনিবার২০শে এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ১১ই শাওয়াল, ১৪৪৫ হিজরি৭ই বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

অটোচালককে বেধড়ক মারধর করে মাথায় পা দিয়ে চেপে ধরে চিকিৎসক- বাধা দেওয়ায় পুলিশকে কিলঘুষি

চিকিৎকের হামলায় আহত অটোচালক ও পুলিশ সদস‌্য।ছবি-সংগৃহীত।

বাংলা সংবাদ২৪ সংবাদদাতা– গাজীপুরের টঙ্গীতে শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. মাসুদ রানা এক অটোরিকশা চালককে পিটিয়ে আহত করেছেন।”

আর  এতে ঘটনায় বাধা দেওয়ায় গাজীপুর মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের এটিএসআই সাইফুল ইসলামকেও কিলঘুষি মেরেছেন তিনি। আজ (মঙ্গলবার) দুপুর ২টার দিকে শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালের ফটকের সামনে এ ঘটনা ঘটে।’

”প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান- হাসপাতালের ডিউটি শেষে ডা. মাসুদ রানা নগরীর আরিচপুর জামাই বাজার এলাকায় তার বাসায় ফিরছিলেন। এ সময় হাসপাতাল ফটকের সামনে একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সঙ্গে ধাক্কা লাগে তার। এ ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে ডা. মাসুদ রানা রিকশাচালক নাসিরকে হাসপাতালের ভিতরে নিয়ে বেধড়ক মারধর করতে থাকেন।”

’ওই ঘটনার একপর্যায়ে অটোরিকশাচালককে বালিতে ফেলে দিয়ে ডা. মাসুদ ওই অটোচালকের মাথায় পা দিয়ে চেপে ধরে রাখেন। এই দৃশ্য দেখে ঘটনাস্থলের কাছে কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশের এটিএসআই সাইফুল ইসলাম এগিয়ে আসলে ডা. মাসুদ রানা উত্তেজিত হয়ে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেন পুলিশ সদস্যকেও ।।”

এর পর পুলিশ সদস্যকেও কিলঘুষি মেরে আহত করেন উত্তেজিত চিকিৎসক মাসুদ। মুহূর্তের মধ্যে খবরটি পুলিশ সদস্যদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে ট্রাফিক পুলিশ ও টঙ্গী পূর্ব থানা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।’

’অটোরিকশাচালক নাসির বলেন, আমার অটোরিকশার সঙ্গে ধাক্কা লেগে ডা. মাসুদ রানা পড়ে যান। পরে আমি তার কছে ক্ষমা চাইলেও তিনি আমাকে গেঞ্জির কলার চেপে ধরে হাসপাতালের ভিতরে নিয়ে বেধড়ক মারধর করে। তিনি আমাকে বালির মধ্যে ফেলে দিয়ে পা দিয়ে মাথা চেপে ধরলে আমার নিঃস্বাস বন্ধ হয়ে আসে।”

ট্রাফিক পুলিশের এটিএসআই সাইফুল ইসলাম বলেন-এক বাচ্চা ছেলেকে নির্মমভাবে পেটানো দেখে আমি এগিয়ে গিয়ে ড. মাসুদ রানাকে শান্ত করার চেষ্টা করি। এ সময় তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে ধাক্কা মেরে রাস্তায় ফেলে দেন। তার কিলঘুষিতে আমার ইউনিফর্ম ছিঁড়ে যায়। পরে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে আমাকে উদ্ধার করেন।”

’ ডা. মাসুদ  বলেন, আমি রিকশাচালককে মারধর করা অবস্থায় হঠাৎ পুলিশ সদস্য সাইফুল এসে আমাকে তার হাতে থাকা লাঠি দিয়ে আঘাত করেন। পরে আমি তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেই।”

”টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাভেদ মাসুদ জানান- বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে। উভয়ে যেহেতু  সরকারী কর্মচারী তাই সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে “।