রবিবার১৩ই জুলাই, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ১৮ই মহর্‌রম, ১৪৪৭ হিজরি২৯শে আষাঢ়, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

হাজীগঞ্জে আ.লীগের দু’পক্ষের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় রণক্ষেত্র

বাংলা সংবাদ২৪ সংবাদদাতা– চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে আওয়ামী লীগের দু’পক্ষের কয়েক দফার ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে ।পুলিশ উভয় পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার শেল ও ফাঁকা গুলি ছুড়েছে।

আজ মঙ্গলবার (১৫ ডিসেম্বর) বিকেলে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য ভাঙচুরের প্রতিবাদে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দেয় হাজীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা জানান, বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করতে পশ্চিম বাজারে মঞ্চ তৈরি করা হয়।

দুপুরে ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী সেই মঞ্চ ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দেন। বিকেলে উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রতিবাদ সমাবেশে যোগ দিতে বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে মিছিল নিয়ে আসেন নেতাকর্মীরা। কিন্তু প্রতিবাদ সমাবেশ চলাকালে উত্তর দিক থেকে ইট-পাটকেল ছোড়া হলে সমাবেশ ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়।

এমন সময় সমাবেশে আসা লোকজনও ইট-পাটকেল ছুড়তে শুরু করেন। একপর্যায়ে উভয় পক্ষকে নিবৃত করতে ১২২ রাউন্ড টিয়ার শেল ও ফাঁকা গুলি ছোড়ে পুলিশ। আওয়ামী লীগের সমাবেশ থেকে রাফা টাওয়ার ও বিশ্বরোডস্থ একুশে ডিজিটাল হাসপাতালও ভাঙচুর করা হয়। পাশাপাশি চাঁদপুর কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কে কয়েকটি যানবাহন ভাঙচুর করা হয় ।

এ ব্যাপারে হাজীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের আহ্বায়ক মাসুদ ইকবাল বলেন, দুপুরে ফরহাদ নামে এক ছাত্রলীগ নেতা বাসস্ট্যান্ড পশ্চিম বাজার থেকে বাজারে আসছিলেন। এসময় রাহি নামে এক ছাত্রলীগ নেতা তার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেন।

এ নিয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গাজী মাইনুদ্দীনের কাছে বিচার দিলেও তিনি বিচার করেননি। তাই বিক্ষুব্ধ ছাত্রলীগ ও ফরহাদের বন্ধুরা এ ঘটনা ঘটিয়েছেন। হাজীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান গাজী মো. মাইনুদ্দীন জানান, আওয়ামী লীগের একটি অঙ্গ সংগঠন আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। প্রশাসন এ সময় পুরোপুরি নিরব ভূমিকা পালন করেছে।

হাজীগঞ্জ সার্কেলর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আফজাল হোসেন বলেন, একটি রাজনৈতিক দলের দু’টি পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। জনগণের জানমালের ক্ষয়ক্ষতি রোধে পুলিশ টিয়ার শেল ও ফাঁকা গুলি ছুড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। আওয়ামী লীগ যে সমাবেশ করবে থানা থেকে কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি।