বৃহস্পতিবার২৫শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ১৯শে মহর্‌রম, ১৪৪৬ হিজরি১০ই শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

পানির দেখা নেই ৪০ বছর, তবু রাস্তা খুঁড়ে দেড় কোটি টাকায় হচ্ছে কালভার্ট

পাবনা সদর উপজেলার ভাঁড়ারা ইউনিয়নের কোলাদী জামতলা বাজার এলাকায় এই কালভার্ট স্থাপনের কাজ চলছে। ছবি-সংগৃহীত।

বাংলা সংবাদ২৪ সংবাদদাতা– পাবনা সদর উপজেলার ভাঁড়ারা ইউনিয়নের কোলাদী জামতলা বাজার এলাকায় এই কালভার্ট স্থাপনের কাজ চলছে। কোনো খাল বা নালা নেই তবু রাস্তা খুঁড়ে দেড় কোটি টাকা খরচে তৈরি হচ্ছে দুটি কালভার্ট। সড়কের ডান পাশের বাড়ি রহিম মোল্লার এবং বাঁ পাশে আজম মোল্লার বাড়ি। মাঝে চলে গেছে পাবনা-সুজানগর আঞ্চলিক সড়ক। এ সড়কের দুই পাশেই ওই দুটি বাড়ির দিকে মুখ করে রাস্তা খুঁড়ে তেরি হচ্ছে দুটি বক্স কালভার্ট । আঞ্চলিক এই সড়কে কালভার্ট দুটি তৈরি করছে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ। এ কালভার্ট দুটি তৈরিতে ব্যয় হচ্ছে প্রায় দেড় কোটি টাকা।

এলাকার মানুষের মাঝে চলছে আলোচনা সমালোচনা এ বিষয় নিয়ে। এলাকাবাসী জানায়, এখানে কোনো খাল বা নালাই নেই। তাছাড়া প্রায় ৩০ থেকে ৪০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এলাকায় কোনো পানির দেখা নেই।

এরপরও কেনো এত টাকা খরচ করে কালভাট দুটি তৈরি করা হচ্ছে? সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ সূত্রে জানা যায়, অনেক আগে সড়কের ওই স্থানে দুটি কালভার্ট ছিল। কালভার্ট দুটি পুরোনো হয়ে যাওয়ায় নতুন করে দুটি কালভার্ট তেরি করা হচ্ছে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা। চট্টগ্রামের ইউনিসুন অ্যান্ড ব্রাদার্স প্রাইভেট লিমিটেড নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি পেয়েছে। তবে তাদের হয়ে নির্মাণ কাজটি করছে দেলোয়ার হোসেন নামের স্থানীয় এক ব্যক্তি।

স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শত বছর আগে সড়কের ওই স্থান দিয়ে একটি নালার মতো কিছু একটা ছিল বলে তারা শুনেছেন। ওই নালাটি দিয়ে রাস্তার দুই পাশের দুটি বিলে বৃষ্টির পানি প্রবাহিত হতো।

আঞ্চলিক সড়কটি নির্মাণের সময় সেখানে দুটি কালভার্ট দেওয়া হয়েছিল। পরে পলি জমে নালাটি বন্ধ হয়ে গেছে। সবশেষ প্রায় ১৯৮০ সালের দিকে পুরোনো কালভার্ট দুটি দিয়ে বৃষ্টির পানি বেড় হতে দেখা গেছে।  এরপর থেকে বর্ষাকাল বা বৃষ্টি কোনো কিছুর পানি আর ওই কালভার্ট দিয়ে বের হতে দেখা যায়নি। এ ছাড়া বর্তমানে কালভার্টের দুই পাশ দিয়েই বসতবাড়ি তৈরি হয়েছে। এখন আর পানি প্রবাহের কোনো সুযোগ নেই।

গ্রামের বাসিন্দা বাচ্চু মোল্লা (৭৫) জানান, দীর্ঘদিন ধরে সড়কে জোড়া দুটি কালভার্ট থাকলেও সেখান দিয়ে তিনি কখনো পানি প্রবাহ হতে দেখেননি। প্রায় ১৯৮০ সালের দিকে টানা কয়েক দিন বৃষ্টি হয়েছিল। তখন তিনি ওই কালভার্ট দিয়ে বৃষ্টির পানি যেতে দেখেন।

স্থানীয় ভাড়ারা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আবু সাঈদ খান বলেন, নতুন কালভার্ট দুটি নির্মাণ দেখে এলাকার প্রত্যেকটি মানুষ অবাক হয়েছে। পানি নেই অথচ জোড়া কালভার্ট তৈরি হচ্ছে। এটা সরকারি অর্থের অপচয় আর ছাড়া কিছু নয়, এই কালভার্ট এ এলাকার কোনো কাজেই আসবে না।

পাবনা সওজের কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী এ কে এম শামসুজ্জোহা বলেন, অর্থ অপচয় নয়, প্রয়োজন আছে বলেই কালভার্ট দুটি তেরি করা হচ্ছে। দুই পাশের জলাধার প্রবাহের জন্য আগে থেকেই ওখানে দুটি কালভার্ট ছিল। একটি দিয়ে দুই পাশের দুই পুকুরে ও অপরটি দিয়ে দুই পাশের বিলে পানি প্রবাহ হয়।।