শুক্রবার১৯শে এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ১০ই শাওয়াল, ১৪৪৫ হিজরি৬ই বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

চাঁদপুর-শরীয়তপুর ২ জেলায় বিদেশফেরত ৮০০ জন হোম কোয়ারেন্টাইনে

বাংলা সংবাদ২৪ ডেস্ক–চাঁদপুর এবং শরীয়তপুর এ জেলায় ৮০০জনকে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার   জন্য বলা হয়েছে। চাঁদপুরে বিদেশফেরত ৬০৮ জনকে নিজ নিজ বাড়িতে কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশ দিয়েছে জেলা প্রশাসন। সম্প্রতি তারা বিভিন্ন দেশ থেকে চাঁদপুরে ফিরেছেন বলে জানান চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জামান।

তিনি বলেন, তাদের কেউই কোনোরকম জ্বর বা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত নন। সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে তাদের হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত বিভিন্ন দেশ থেকে চাঁদপুরে ফিরেছেন ৬০৮ জন। তাদের প্রত্যেককে করোনাভাইরাস থেকে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে নিজ নিজ বাড়িতে নিজ দায়িত্বে কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এদিকে চাঁদপুরের সিভিল সার্জন কার্যালয় বিদেশ থেকে চাঁদপুরে ফেরা ৪৮০ জনের একটি তালিকা প্রকাশ করেছে। তাদের বেশির ভাগই সৌদি আরব, দুবাই, লেবানন, ওমান, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন ও ইতালি থেকে এসেছেন। বেশ কয়েকজন এসেছেন লিবিয়া, স্পেন, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও আমেরিকা থেকে। তালিকায় আরও নাম যুক্ত হবে বলে জানিয়েছে সিভিল সার্জন কার্যালয়। উপজেলা পর্যায় থেকে নামগুলো সংগ্রহ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

সিভিল সার্জন ডা. মো. সাখাওয়াতউল্লাহ বলেন, জেলার আট উপজেলায় আমাদের মেডিকেল টিম প্রস্তুত আছে। বিদেশফেরতরা ১৪ দিন বাড়ির বাইরে যেতে পারবেন না বলে সতর্ক করে দেয়া হয়েছে।

শরীয়তপুরে ১৯২ জন
 ইতালি থেকে সম্প্রতি শরীয়তপুরে ফিরে আসা ১৯২ জন প্রবাসীকে রাখা হয়েছে হোম কোয়ারেন্টাইনে। শরীয়তপুরের সিভিল সার্জন ডা. এস.এম. আব্দুল্লাহ্ আল মুরাদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ইতালিতে করোনাভাইরাস মহামারি আকার ধারণ করায় নানা শংকা আর দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন শরীয়তপুরের ইতালি প্রবাসীদের পরিবারের সদস্যরা।

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী শরীয়তপুরের অন্তত ১ লাখ ৯২ হাজার মানুষ প্রবাসে থাকেন। তাদের অধিকাংশই ইতালিতে বসবাস করেন। এর মধ্যে নড়িয়া উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের রয়েছেন প্রায় ৭২ শতাংশ। ইতালি প্রবাসীরা নিয়মিত নড়িয়ায় যাতায়াত করছেন। তবে সম্প্রতি করোনাভাইরাসের সংক্রমণে এসব প্রবাসীদের নিয়ে উদ্বিগ্ন তাদের পরিবার ও এলাকাবাসী।

ইতালির বিভিন্ন শহর থেকে নড়িয়ায় এসেছেন এমন কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ইতালিতে করোনাভাইরাস ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়া ও দু’জন ইতালি ফেরত ব্যক্তির বাংলাদেশে এসে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবরে ইতালিতে বসবাসরত প্রবাসীদের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা গেছে। দেশে এসেও এলাকায় বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়ছেন এসব প্রবাসী।

নড়িয়া উপজেলার ভোজেশ্বর ইউনিয়নের এক বাসিন্দা বলেন, আমি ইতালির তুরিন শহরে থাকি। ১০ দিন আগে দেশে এসেছি। তবে আমার শরীর ভালো আছে। বিমানবন্দরে আমাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়নি। কিন্তু গ্রামে আসার পর কিছুটা বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছি। আমি এসেছি জেনে কোনো আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধুবান্ধব দেখা করতে আসেনি। বিব্রতকর পরিস্থিতি এড়াতে বেশির ভাগ সময়ই বাড়িতে থাকছি।

ইতালি প্রবাসীদের পরিবারের এক সদস্য মোস্তাক আহম্মেদ বলেন, আমার ছেলে ইতালিতে আছে। কিন্ত কোনো কাজ কর্ম করতে পারছে না। বাসা থেকে বের হতে দিচ্ছেনা বাঙালিদের। যার কারণে না খেয়ে দিন কাটাতে হচ্ছে। তারা সুস্থ আছে, কিন্ত না খেয়ে থাকলে তো অসুস্থ হয়ে পড়বে।

শরীয়তপুর সদর উপজেলার দক্ষিণবালুচড়া এলাকার প্রবাসী সৈয়দ আলমগীর ইতালি থেকে মোবাইল ফোনে জানান, করোনাভাইরাসের কারণে ইতালির সড়কগুলো বেশিরভাগ সময়ই ফাঁকা থাকে। বেশিরভাগ কর্ম ক্ষেত্রই কর্মশূন্য হয়ে পড়েছে। ইতালি প্রবাসী বাঙালিরা বেকার হয়ে পড়ছে। এ রকম চলতে থাকলে আমাদের না খেয়ে মরতে হবে।

এ সংকট কাটাতে ইতালিতে বসবাসরত বাঙালিদের পাশে দাঁড়াতে সরকারের যথাযথ পদক্ষেপ কামনা করেছেন প্রবাসীদের পরিবারের সদস্যরা। এদিকে শরীয়তপুরে করোনাভাইরাস আক্রান্তদের জন্য আইসোলেশন ওয়ার্ড খোলা হয়েছে। তবে এখনও পাওয়া যায়নি করোনাভাইরাস শনাক্তকরণ যন্ত্র। সপ্তাহখানেক আগে করোনাভাইরাস শনাক্তকরণ যন্ত্র চেয়ে আবেদন করেছে শরীয়তপুর সিভিল সার্জন কর্তৃপক্ষ।

সিভিল সার্জন ডা. এস.এম. আব্দুল্লাহ আল মুরাদ বলেন, সম্প্রতি ইতালি থেকে শরীয়তপুরে ফিরে আসা ১৯২ জন প্রবাসীকে রাখা হয়েছে হোম কোয়ারেন্টাইনে। কোনো ব্যক্তি করোনায় আক্রান্ত হলে বা উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত তাকে চিকিৎসার আওতায় নেয়ার জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে পাঁচ শয্যার ও প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঁচ শয্যার করে আইসোলেশন ওয়ার্ড খোলা হয়েছে। এছাড়া কোয়ারেন্টাইনে রাখার জন্য ১০০ শয্যা প্রস্তুত করার কাজ চলছে।

তিনি বলেন, ইতালি থেকে শরীয়তপুরে যারা এসেছেন তাদের সঙ্গে আমরা কথা বলছি। স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মীরা তাদের খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে। এছাড়া আক্রান্ত লোকজনের আইসোলেশনে রাখার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।