শনিবার২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ১৪ই শাবান, ১৪৪৫ হিজরি১১ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

সরকারী শতকোটি টাকার জমি আওয়ামী লীগ নেতার দখলে!

বাংলা সংবাদ২৪ ডেস্ক:- বরিশাল শহরের শহরের উপকণ্ঠে তালতলী বাজার এলাকায় গণপূর্ত বিভাগের ৯ একরের বেশি জমি নামে-বেনামে দখলে নিয়েছেন স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহাতাব হোসেন সুরুজ।

গণপূর্তের চোখের সামনে কয়েক বছর ধরে এ জমি দখলে নেন সুরুজ। তবে তিনি দখল করার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। কিন্তু গত বুধবার গণপূর্ত বিভাগ দখলদারদের যে তালিকা জেলা প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করেছে, সেখানে সুরুজ এবং তাঁর ভাইসহ আওয়ামী লীগের অন্তত ১৫ নেতার নাম রয়েছে। যদিও তাদের মধ্যে বেশির ভাগই ভাড়াটিয়া।

গণপূর্ত বিভাগের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, আমাদের জমিতে বালু ভরাট করে গরুর হাট ও অস্থায়ী বাজার বসানো, তিনটি পুকুর দখল করে মাছ চাষ, অস্থায়ী দুই শতাধিক দোকান তুলে ব্যবসা পরিচালনা—এর সব কিছুই নির্বাহী প্রকৌশলী জানতেন।

স্থায়ী স্থাপনা ও মাছ বাজার করার সময়ও নির্বাহী প্রকৌশলীকে অবহিত করা হয়েছিল, কিন্তু তিনি নীরব ছিলেন। পরে জানতে পেরেছি তাঁকে ম্যানেজ করেই সব কিছু হচ্ছে।এ কর্মকর্তা বলেন, তালতলী বাজার এলাকায় বর্তমানে প্রতি শতাংশ জমি ১১-১২ লাখ টাকায় বেচাকেনা হয়। সেই হিসাবে গণপূর্তের বেদখল হয়ে যাওয়া জমির দাম ১০০ কোটি টাকার বেশি।

বরিশাল গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী অলিবার গুদা বলেন আমরা দখলের বিষয়ে অনেক আগে থেকেই মন্ত্রণালয়ে অবহিত করেছি। তারা আমাদের ওই দখলদারদের উচ্ছেদে কোনো নির্দেশনা দেয়নি।তিনি জানান, দখল হয়ে যাওয়া জমির সীমানা নির্ধারণে গণপূর্ত বিভাগ গত বৃহস্পতিবার সরেজমিনে লোক পাঠিয়েছিল। কিন্তু স্থানীয় লোকজন বাধা দেওয়ায় তা হয়নি। এখন জেলা প্রশাসন ও মন্ত্রণালয়ের সহায়তা না পেলে ওই সম্পত্তি দখলমুক্ত করা সম্ভব নয়।

তালতলী বাজারে গিয়ে জানা যায়, সদর উপজেলার চরবাড়িয়া মৌজার ৪১ নম্বর জেএলের ৩ নম্বর খতিয়ানের (দাগ নম্বর ১৭৭, ১৭৮, ১৮১, ২৪৪, ২৪৫ ও ২৪৬) গণপূর্ত বিভাগের ৯ একর ১৫ শতাংশ জমিই বেদখল হয়ে গেছে। আগের জরিপে গণপূর্ত বিভাগের নামে পুরো জমিটিই রেকর্ড হয়েছিল। কিন্তু নতুন জরিপে এক একর ১ শতাংশ জমি বেহাত হয়ে গেছে।

চরবাড়িয়া ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা জসীম উদ্দিন বলেন, ‘বিএস ৩ নম্বর খতিয়ানে আট একর ১৪ শতাংশ জমি রেকর্ড রয়েছে গণপূর্তের নামে। বাকি জমির কী হয়েছে, তা শুধু তারাই জানে। এ বিষয়ে আমাদের কাছে জানতে চাইলে আমরা তাদের রেকর্ড অনুসারে বলতে পারব।
জানা গেছে, গণপূর্তের এ ৯ একর ১৫ শতাংশ জমিই নামে-বেনামে চরবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা মাহাতাব হোসেন সুরুজের দখলে রয়েছে।

এর মধ্যে পাঁচ একরই সরাসরি তার দখলে আছে। সেখানে তিনি মাছ বাজার, মার্কেট ও বালুর খলা করে ভাড়া দিয়েছেন এবং নিজেও ব্যবসা করছেন। বাজার লাগোয়া তিন একর জমির ওপর বিশাল একটি পুকুর ছিল, যার দুই একরই ভরাট করে ফেলা হয়েছে। ভরাট করা জমির চারপাশে ৩০০-এর বেশি দোকান রয়েছে।

জেলা প্রশাসক এস এম অজিয়র রহমান বলেন, গণপূর্ত বিভাগ তাদের জমি বেদখলের বিষয়ে আমাদের আদৌ অবহিত করেনি।
যদি অবহিত করত তবে আমরা অবশ্যই উচ্ছেদের ব্যবস্থা নিতাম।

 তালতলী বাজারের বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সব জমিই তাদের (চেয়ারম্যান ও তার স্বজন) দখলে। গণপূর্ত বিভাগ ভাড়াটিয়াদেরও দখলদার হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। এ কারণে তাদের তালিকায় ৫২জন দখলদার ।

জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ইউপি চেয়ারম্যান মাহাতাব হোসেন সুরুজ বলেন, গণপূর্ত বিভাগের জমি খালিই পড়ে ছিল। আমার কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর বাইরে কিছু নেই।