বুধবার২৪শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ১৮ই মহর্‌রম, ১৪৪৬ হিজরি৯ই শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

জেলা শিক্ষা অফিসার স্বাক্ষরিত বরখাস্তের চিঠিতে ২২টি ভুল

বাংলা সংবাদ২৪ ডেক্স–সহকারী শিক্ষককে বরখাস্ত করেছেন জেলা শিক্ষা অফিসার কারণ চতুর্থ শ্রেণির ছাত্ররা ইংরেজি পড়তে পারেনি । অথচ জেলা শিক্ষা অফিসার স্বাক্ষরিত ঐ বরখাস্তের চিঠিতেই রয়েছে ২২টি ভুল। ক্ষুব্ধ শিক্ষকদের বক্তব্য, ছাত্রদের ভুলে শিক্ষক বরখাস্ত হলে জেলা শিক্ষা অফিসারের ভুলে কে বরখাস্ত হবেন?

বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল। সরকারি এক চিঠিতেই ২২টি ভুল থাকায় সর্বত্রই সমালোচনা হচ্ছে।বিগত ৩০ জুলাই ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলার ভালাইপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনে যান জেলা শিক্ষা অফিসার শেখ মো. আকতারুজ্জামান। তিনি চতুর্থ শ্রেণির শ্রেণিকক্ষে গিয়ে শিক্ষার্থীদের ইংরেজি বইয়ের একটি চ্যাপ্টার থেকে রিডিং পড়তে বলেন। কিন্তু ছাত্ররা সাবলীলভাবে ইংরেজি পড়তে পারেনি।

এ কারণে জেলা শিক্ষা অফিসার ঐ শ্রেণিতে যিনি ইংরেজি পড়ান তাকে দায়ী করেন। জেলা শিক্ষা অফিসার অফিসে ফিরেই সহকারী শিক্ষক নার্গিস সুলতানাকে বরখাস্ত করেন। ঐ বরখাস্তের আদেশের অনুলিপি দেন মহাপরিচালক, বিভাগীয় উপপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরেও। আদেশ কার্যকর হয় বৃহস্পতিবার থেকেই। কিন্তু তিনি যে বরখাস্তের চিঠি দিয়েছেন তাতে রয়েছে ২২টি ভুল। যে ইংরেজি বই পড়তে না পারার কারণে শিক্ষককে বরখাস্ত করা হয়েছে সেই ইংরেজি বানানেও ভুল করেছেন জেলা শিক্ষা অফিসার।

পযধঢ়ঃবৎ লিখতে গিয়ে লিখেছেন পধযঢ়ঃবৎ। ‘শ্রেণি’ বানানের ক্ষেত্রে কোথাও লিখেছেন ‘শ্রেণি’, আবার কোথাও লিখেছেন ‘শ্রেণী’। অসদাচরণ বানান লিখতে গিয়ে ভুল করেছেন। এমন অন্তত ২২টি ভুল করেছেন তিনি। সরকারি চিঠিতে এমন ভুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তারাও। জেলা শিক্ষা অফিসারদের দক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন অনেকেই।

জানতে চাইলে জেলা শিক্ষা অফিসার শেখ মো. আকতারুজ্জামান বলেন, ৫০ শতাংশ শিক্ষার্থীও যদি রিডিং পড়তে পারত আমি ক্ষমা করতে পারতাম। একটি বাচ্চাও রিডিং পড়তে পারেনি। যার রোল নম্বর ২ সেও পারল না। যার রোল নম্বর ৩ সেও পারল না।

শিক্ষকও রিডিং পড়তে গিয়ে দুটি শব্দ ভুল করেছেন। তিনি বলেন, শিক্ষক প্রশিক্ষণ পাওয়ার পরও ভুল করেছে তাহলে আমার কী করণীয়? জাতি আর কত সময় দেবে। আমি বরখাস্ত করেছি। দুই সপ্তাহের মধ্যে বিভাগীয় মামলা রুজু করব। ভুল বানানের বিষয় তিনি বলেন, আমার বয়স ৫০-এর বেশি।

আমার চশমাটা কে বা কারা নিয়ে গেছে। মুখে বলে দিয়েছি প্রধান সহকারী লিখেছেন।
চশমা না থাকার কারণে ঠিকমতো দেখতে পারিনি। খেয়ালও করিনি। সরল বিশ্বাসে সই করে দিয়েছি। বানান ভুল হয়ে গেছে। পরে যখন জেনেছি তখন আবার একই স্মারকে সংশোধন করে দিয়েছি।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মঞ্জুর কাদির বলেন, ছাত্ররা ইংরেজি পড়তে পারে না এ কারণে শিক্ষককে বরখাস্ত করা ঠিক হয়নি। শিক্ষকের দক্ষতার অভাব থাকতে পারে। কিন্তু সেজন্য তাকে সময় দিতে হবে। জেলা শিক্ষা অফিসার যে ভুল করেছেন সেটাও তার অপরাধ এবং অদক্ষতা।