বুধবার১৭ই এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ৮ই শাওয়াল, ১৪৪৫ হিজরি৪ঠা বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

শিশুর মূত্যু ঝুকি বাড়ছে ওরস্যালাইনের ভুল ব্যাবহারে

সংগৃহীত ছবি

ডেক্স রিপোট-আইসিডিডিআরবির গবেষণায় জানা গেছে জীবন রক্ষাকারী ওরাল (খাওয়ার) স্যালাইন পরিমিত না খেলে জীবনঘাতী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে । প্রতিবছর ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে সাত ভাগ মানুষ অসচেতনতার কারণে না জেনে মাত্রাতিরিক্তি (ওআরজি) খাবার স্যালাইন খেয়ে শরীরে লবণের পরিমাণ বাড়িয়ে ফেলে। ফলে খিঁচুনিসহ মস্তিস্কে রক্তক্ষরণ হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে।

এক্ষেত্রে শিশুরাই বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। গবেষণায় জানা গেছে, ডায়রিয়ায় আক্রান্ত শিশুর যে পরিমাণ পানিশূন্যতা হয় সে পরিমাণ স্যালাইন না দিয়ে মাত্রাতিরিক্ত স্যালাইন খাওয়ানোর ফলে ওই শিশুর শরীরে সোডিয়ামের পরিমাণ বেড়ে যায়। আর তখনই শিশুটির ব্রেনের কোষগুলো ধ্বংস হয়ে তা দিয়ে রক্তক্ষরণ হতে শুরু করে। এতে প্রথমে শিশুর খিঁচুনি দেখা দেয়। এক্ষেত্রে বড়দের খিঁচুনি না হয়ে সরাসরি ব্রেন স্ট্রোক হওয়ার আশঙ্কা থাকে। গত চার বছরের এক জরিপে দেখা গেছে, এ ধরনের রোগীদের প্রায় ১৯ ভাগেরই মৃত্যু হয়েছে।

আইসডিডিআরবির চিকিৎসকরা জানান, ডায়রিয়ায় আক্রান্ত একটি শিশুর শরীর থেকে যে পরিমাণ পানি বের হবে ঠিক সে পরিমাণ খাবার স্যালাইন খাওয়াতে হবে। তবে এর আগে খাবার স্যালাইন বানানোর সঠিক নিয়মটি জানতে হবে।

না জেনে অল্প পানিতে বেশি স্যালাইন মিশিয়ে খাওয়ালে ওই শিশুটির দেহে সোডিয়ামের পরিমাণ বেড়ে যাবে এবং শিশুটি তখন বেশি বেশি খাবার স্যালাইন খেতে চাইবে। এমন ঘটনা হলে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকরে পরামর্শ নিতে হবে। না হলে ওই শিশুর দেহে সোডিয়ামের পরিমাণ বেড়ে খিঁচুনিসহ মৃত্যুর আশঙ্কা থাকে।

গত চার-পাঁচ বছর ধরে টানা গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশের ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে ৫৫ ভাগ পুরুষ, ২৫ ভাগ শিশু ও ২০ ভাগ নারী। এর নারী-শিশুসহ ৯০ ভাগ মানুষ এন্টিবায়েটিক ওষুধ ছাড়াই শুধু খাবার স্যালাইন খেয়ে সুস্থ হয়ে ওঠে।

বাকিদের এন্টিবায়েটিক অষুধ দ্বারা সুস্থ হতে হচ্ছে। তবে ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে শিশুদের এন্টিবায়েটিক সেবনের সংখ্যা দিন দিন বেড়ে চলছে। এক্ষেত্রে চিকিৎসকরা জানান,

আগের পরিসংখ্যানে একটি শিশু বছরে দুইবার এন্টিবায়েটিক নিলেও বর্তমানে বছরে নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে নয় থেকে ১০বার এন্টিবায়েটিক নিতে হচ্ছে। ফলে এন্টিবায়েটিকের সেবন মাত্রাতিরিক্ত বেড়ে গেছে। যা শিশু ভবিষ্যৎ জীবন বিকাশে বড় রকমের বাধা হতে পারে। এমনকি অতিরিক্ত এন্টিবায়েটিক সেবনে শিশুর দেহে সাধারণ ওষুধের কার্যক্ষমতা হারিয়ে ফেলছে।

এসব বিষয়ে আইসিডিডিআরবির নিউট্রিশন অ্যান্ড ক্লিনিক সার্ভিস বিভাগের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. মোহাম্মদ জুবায়ের চিশতী আজকালের খবরকে বলেন, ডায়রিয়া হলে যতবার শরীর থেকে পানি বের হবে ততবার ওই পরিমাণ খাবার স্যালাইন খেতে হবে।

ডায়রিয়া রোগীর খাবার স্যালাইনের কোনো বিকল্প নেই। তবে নিয়ম না মেনে বা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া না জেনে দ্রত সুস্থ হয়ে ওঠার তাগিদে মাত্রাতিরিক্ত স্যালাইন খাওয়ালে তাদের শরীরের মারাত্মক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।