শুক্রবার১৯শে এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ১০ই শাওয়াল, ১৪৪৫ হিজরি৬ই বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বৃষ্টি না হলে

উৎপাদন বন্ধ হতে পারে কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের

পার্বত্য চট্টগ্রামে চলতি সপ্তাহে বৃষ্টিপাত না হলে কর্ণফুলীর কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে বৃষ্টি না হওয়ায় অস্বাভাবিক হারে নিচে নামছে কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর। ফলে হ্রদের পানির ওপর নির্ভরশীল এ বিদ্যুৎকেন্দ্রটির উৎপাদনে ধস নেমেছে।”

;পাঁচ ইউনিটে ২৪২ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন কেন্দ্রে গতকাল শনিবার বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে মাত্র ২৫ মেগাওয়াট। বর্তমানে সেখানে চালু মাত্র একটি ইউনিট। ২৫ দিন ধরে চলছে এই অবস্থা। তবে কেন্দ্রের কোনো ইউনিটে যান্ত্রিক ত্রুটি নেই। সবকটি ইউনিট উৎপাদনে সক্ষম হলেও শুধু পানির অভাবে সক্রিয় নেই।”

;এখানে উৎপাদিত বিদ্যুতের পুরোটাই যায় জাতীয় গ্রিডে। যদিও আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, চলতি সপ্তাহে টানা বৃষ্টিপাতের কোনো সম্ভাবনা নেই পাহাড়ে। কালবৈশাখী হতে পারে। এ অবস্থায় কর্ণফুলী জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক (তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী) এ টি এম আবদুজ্জাহের কালবেলাকে বলেন- হ্রদের পানির স্তর ক্রমশ নিচে নেমে যাওয়ায় অনেক কষ্টে একটি ইউনিট চালু রেখেছি। গেল ২০-২৫ দিন ধরে পাঁচ ইউনিটের একটিতে উৎপাদন হচ্ছে।”

;যদিও আবহাওয়া অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম বিভাগের উপপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) ড. মো. ছাদেকুল আলম বলেন- পার্বত্য চট্টগ্রামে চলতি সপ্তাহে একাধিক কালবৈশাখী হতে পারে। ওই সময় কয়েক ঘণ্টা থেমে থেমে বৃষ্টির দেখা মিলতে পারে। তবে টানা বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা নেই। মাত্র দু-এক ঘণ্টার বৃষ্টিতে কাপ্তাই হ্রদে আশানুরূপ পানি বাড়বে না বলেই ধারণা করছি। পর্যাপ্ত পানির জন্য টানা বৃষ্টির বিকল্প নেই। ”

;৯৬০ সালে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার কর্ণফুলীর ওপর বাঁধ দেওয়া হয়। এতে ২৫৬ বর্গমাইল এলাকাজুড়ে বিশাল জলাধার সৃষ্টি হয়। এটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সবচেয়ে বড় মনুষ্যসৃষ্ট হ্রদ। নদীর তীরে ১৯৬২ সালে ৪৬ মেগাওয়াট করে দুটি ইউনিট নিয়ে যাত্রা শুরু করা দেশের একমাত্র পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রটির এখন উৎপাদন ক্ষমতা ২৪২ মেগাওয়াট। বৃষ্টিপাতের ফলে উজান থেকে আসে পানির ঢল। এতে হ্রদে পানি বাড়লে বিদ্যুৎ উৎপাদনও বাড়ে। ”

;খোঁজ নিয়ে জানা যায়- অক্টোবর মাসে কাপ্তাই হ্রদে সর্বোচ্চ পানির স্তর থাকে। এরপর জলেভাসা জমিতে চাষাবাদের জন্য বাঁধ দিয়ে পানি ছেড়ে দিতে হয়। এ ছাড়া বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য হ্রদের পানি ব্যবহার হওয়ায় নভেম্বরের পর ধীরে ধীরে পানি কমা শুরু করে। এপ্রিল মাসে তীব্র দাবদাহের কারণে হ্রদের পানি দ্রুত কমতে থাকে। তবে, মূল কারণ হ্রদটি একবারও ড্রেজিং না করা।”

;প্রতিবছর পাহাড়ি ঢলে হাজার হাজার টন বর্জ্য আর পলিমাটি পড়ে তলদেশ ভরাট হচ্ছে কাপ্তাই হ্রদের। ফলে নাব্য হারচ্ছে। কর্ণফুলী জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের জ্যেষ্ঠ প্রকল্প-চালক হাফিজুর রহমান গতকাল শনিবার বিকেলে জানান- ৫০ মেগাওয়াট সক্ষমতার চার নম্বর ইউনিটটি শুধু চালু আছে। ১২ ঘণ্টায় সেটিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে ২৫ মেগাওয়াট। হ্রদে দুপুর ১২টায় পানির সর্বোচ্চ উচ্চতা ছিল ৭৪.৯৪ ফুট এমএসএল (সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা), অথচ রুলকার্ভ অনুযায়ী থাকার কথা ছিল ৮১.০৫ ফুট এমএসএল। বলেন, এখন বৃষ্টির জন্য অপেক্ষা করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।.