শনিবার২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ১৪ই শাবান, ১৪৪৫ হিজরি১১ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

উনি নিজেকে কি সম্রাট ভাবেন?

এনবিআর চেয়ারম্যানকে লাস্ট চান্স দিলাম :হাইকোর্ট

ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ই-অরেঞ্জের লেনদেন থেকে ভ্যাট, ট্যাক্স ও শুল্ক আদায় সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিলে এনবিআর চেয়ারম্যান আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন না করায় উষ্মা প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট।রাষ্ট্রপক্ষের উদ্দেশে হাইকোর্ট বলেছেন-উনি (এনবিআর চেয়ারম্যান) কেন আদালতের আদেশ ফলো (অনুসরণ) করছেন না? কারণ কী? উনি নিজেকে কি সম্রাট ভাবেন? ”

;যে ব্যাখ্যা ও তথ্য চাওয়া হয়েছে, তা দাখিল করতে এনবিআরের চেয়ারম্যানকে বলবেন। বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি খিজির হায়াত সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ (রোববার) এসব কথা বলেন। “

;এ পর্যায়ে রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন বলেন-বিষয়টি জানাব।গত ২৯ জানুয়ারি হাইকোর্ট এক আদেশে ই-অরেঞ্জের পৃষ্ঠপোষক ও বরখাস্ত হওয়া বনানী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শেখ সোহেল রানাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে গৃহীত পদক্ষেপ জানাতে স্বরাষ্ট্রসচিব এবং ই-অরেঞ্জের লেনদেনের বিপরীতে রাজস্ব আদায়ের বিষয়ে এনবিআরকে পৃথক প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দেন।”

;এর ধারাবাহিকতায় রোববার বিষয়টি শুনানির জন্য কার্যতালিকায় আসে। আদালতে রিট আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এম আবদুল কাইয়ুম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন এবং বিএফআইইউর পক্ষে আইনজীবী শামীম খালেদ আহমেদ।”

;শুনানিতে একেএম আমিন উদ্দিন বলেন- ই-অরেঞ্জের বিরুদ্ধে করা মামলার তদন্ত চলছে। গত বৃহস্পতিবার শেষ বেলায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাগজপত্র হাতে এসেছে, যে কারণে হলফনামা করা হয়নি। আগামী সপ্তাহে দাখিল করা যাবে।”

;তবে পত্রিকায় এসেছে- জামিন নিয়ে ভারতের কারাগার থেকে সোহেল রানা পালিয়ে গেছেন। ভারত থেকে হালনাগাদ তথ্য নিয়ে আসার চেষ্টা চলছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও আইজিপির প্রতিবেদন একই ধরনের।”

;তখন রিট আবেদনকারীদের আইনজীবী এম আবদুল কাইয়ুম বলেন- আদেশ প্রতিপালনের জন্য সময় চাইলে আদালত সময় দিতে পারেন। কিন্তু এনবিআরের চেয়ারম্যান প্রতিবেদন দাখিল করেননি।”

;শেখ সোহেল রানার (বরখাস্ত পুলিশ পরিদর্শক) বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারির জন্য ইন্টারপোল কিছু তথ্য জানতে চেয়েছে, যা পরে দেওয়া হয়নি বলে রাষ্ট্রপক্ষের হলফনামায় দেখা যাচ্ছে।”

;এ সময় হাইকোর্ট বলেন-এনবিআরকে জানিয়েছিলেন কি? ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন- বারবার অনুরোধ করা হয়েছে, গুরুত্ব দেখা যাচ্ছে না। আদালত বলেন-এনবিআরেরটিসহ দুটি প্রতিবেদন একসঙ্গে দেবেন।”

;একপর্যায়ে হাইকোর্ট বলেন, এবিআরের চেয়ারম্যান কে? তখন আইনজীবী এম আবদুল কাইয়ুম বলেন-আবু হেনা মো. রহমাতুল মুনিম। এ সময় হাইকোর্ট বলেন- আমরা লাস্ট চান্স দিলাম। যে তথ্য চাওয়া হয়েছে, তা দিতে এনবিআরের চেয়ারম্যানকে বলবেন। বিষয়টি ২৭ মার্চ কার্যতালিকায় আসবে।.