সোমবার৩০শে জানুয়ারি, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ৮ই রজব, ১৪৪৪ হিজরি১৬ই মাঘ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

শিক্ষিকা ঘুষি মেরে ছাত্রীর মুখ ফুলিয়ে দিলেন !

নিজস্ব সংবাদদাতা-

রাজশাহীতে এক শিক্ষিকার বিরুদ্ধে ছাত্রীর গালে ঘুষি মেরে ফুলিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছে অভিযোগ দেওয়া হলেও তিনি অভিযুক্ত শিক্ষিকার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ব্যবস্থা নেননি। পরে ভুক্তভোগী ছাত্রীর অভিভাবক রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেছেন “

;অভিযোগ সূত্রে জানা যায়- শ্রীমতি নেহা রানী (১৪) লক্ষীপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী। গত ২৬ জুলাই শ্রেণিকক্ষে বেঞ্চে বসা নিয়ে অন্য সহপাঠীর সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়। এ নিয়ে শিক্ষক নাজমা খাতুনকে বিষয়টি জানায় ওই সহপাঠী “

;এ ঘটনায় তিনি নেহা রানীর সঙ্গে রাগান্বিত হন। শেষে নেহা রানীর মুখে ঘুষি মারেন ওই শিক্ষিকা। এতে নেহা রানীর চোখের নিচে জখম হয়। পাশাপাশি ব্যথায় অসুস্থ হয়ে পড়ে সে। পরে নেহার বাবা মাসুম লাল খবর পেয়ে বিদ্যালয় থেকে মেয়েকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়িতে নিয়ে যান।পরের দিন ২৭ জুলাই শিক্ষক নাজমা খাতুনের সঙ্গে দেখা করেন নেহা রানীর মা।”

;এতে অভিযুক্ত শিক্ষক নাজমা খাতুন আরও রেগে যান। পাশাপাশি অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজসহ নিচু জাতের (হরিজন সম্প্রদায়ের) মানুষ বলে ভর্ৎসনা করেন। এ ছাড়া বিষয়টি নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি করলে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন।”

;এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছে অভিযোগ দেওয়া হয়। তিনি অভিযুক্ত শিক্ষিকার বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেননি। পরে ওই ছাত্রীর বাবা মাসুম লাল রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেন। এ ছাড়া রাজপাড়া থানায় গিয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দেন।”

;জানতে চাইলে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আইরিন জাফর বলেন- আমি পদক্ষেপ নেইনি এ বিষয়টি সত্য নয়। অভিভাবকের লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অভিযোগের বিষয়ে শিক্ষিকা নাজমা খাতুন বলেন-দুই ছাত্রীর মধ্যে গণ্ডগোল চলছিল। আমি দুজনকেই নিবৃত্ত করি। তাকে ঘুষি মারা হয়নি। ওরা নিজেরা হাতাহাতির সময় এমনটি হয়ে থাকতে পারে। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগটি মিথ্যা।”

;অভিযুক্ত শিক্ষিকাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনা তদন্তে তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমটিকে তিন কর্মদিবসের মধ্যে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। কমিটির রিপোর্ট পেলে তারপর সেই অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

; রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম বলেন-থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। আমরা বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি।’