শনিবার২২শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ১৬ই জিলহজ, ১৪৪৫ হিজরি৮ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

দাম বৃদ্ধির গুজবে লবণ গায়েব

বাংলা সংবাদ২৪ ডেস্ক– “লবণের দাম বেড়ে গেছে” সিলেট বিভাগজুড়ে এমন গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর গতকাল সোমবার (১৮ নভেম্বর) সন্ধ্যা-রাতেই সব খুচরা দোকানের লবণ বিক্রি হয়ে গেছে। এ সুযোগে অনেক অসাধু ব্যবসায়ী লবণের গায়ের মূল্যের চেয়ে দু-তিন গুণ বেশি দামে লবণ বিক্রি শুরু করেন।

এ অবস্থায় রাতেই সরকারি গোয়েন্দা সংস্থা, পুলিশ, র্যাব ও জেলা প্রশাসন ঝটিকা অভিযান চালিয়ে গুজব নিয়ন্ত্রণ করে।তবে আজ মঙ্গলবার সকালে নগরের বিভিন্ন ভোগ্যপণ্যের দোকান ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় দোকানেই লবণ নেই। গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় এক নিমিষেই লবণ বিক্রি হয়ে গেছে। ফলে এখন সিলেটের খুচরা বাজারে লবণের সংকট রয়েছে।

তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, লবণের দাম বাড়েনি। হঠাৎ করে লবণের চাহিদা বাড়ায় এই মুহূর্তে দোকানে লবণ নেই। লবণের ওর্ডার দেয়া হয়েছে দুপুর নাগাদ দোকানে পাওয়া যাবে। লবণের দাম বাড়েনি বরং ফ্রেশ লবণের বস্তাপ্রতি ১৫ টাকা দাম কমেছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

সিলেট নগরের নবাব রোড এলাকার আল সাফা ফ্যামেলি শপ, ফাতেমা স্টোর, ওসমানী মেডিকেল কলেজ রোডের লিবার্টি সুপার স্টোরে গিয়ে দেখা গেছে দোকানে লবণ নেই। তবে এসব দোকানের মালিকরা জানিয়েছেন, লবণের কোনো সংকট নেই, পর্যাপ্ত মজুত আছে।ফাতেমা স্টোরের ব্যবস্থাপক গোলাম জিলানী বলেন, সোমবার সন্ধ্যায় আমাদের দোকানে দুই বস্তা লবণ ছিল। সবই বিক্রি হয়ে গেছে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে।

তবে আমরা লবণের গায়ের মূল্যে লবণ বিক্রি করেছি। এখন দোকানে লবণ নেই। নতুন করে লবণের ওর্ডার দেয়া হয়েছে। দুপুর নাগাদ লবণ পাওয়া যাবে। তিনি আরও বলেন, লবণের দাম বাড়েনি বরং ফ্রেশ লবণের দাম বস্তাপ্রতি ১৫ টাকা কমেছে বলে কোম্পানি থেকে জানানো হয়েছে।আল সাফা ফ্যামেলি শপের মালিক জাহাঙ্গীর চৌধুরী বলেন, দেশের বাজারে লবণের কোনো সংকট নেই।

অথচ সিলেটে সোমবার সন্ধ্যা-রাতে এই লবণ নিয়ে ঘটে গেছে তুঘলকি কাণ্ড। মুহূর্তের মধ্যে আমার দোকানে থাকা তিন-চার বস্তা লবণ বিক্রি হয়ে গেছে। এখন আর কোনো লবণ নেই। নতুন করে লবণের ওর্ডার দিয়েছি।

সিলেটের জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন বলছে, সিলেটের সাধারণ মানুষকে বোকা বানিয়ে ফায়দা লুটছে একটি চক্র। তবে গতকাল সোমবার রাতেই এই চক্রকে গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে। প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় অভিযান চালিয়ে জরিমানা, সচেতনতামূলক মাইকিংসহ অভিযান জোরদার করা হয়েছে। সাধারণ ক্রেতাদের বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে।

উল্লেখ্য, সোমবার বিকেলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একদল ব্যবসায়ী অসৎ উদ্দেশ্যে গুজব ছড়িয়ে শুধু সিলেট নগর নয়, বিভাগজুড়েই বেশি দামে লবণ বিক্রি করে ফায়দা লোটে।