শনিবার২২শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ১৬ই জিলহজ, ১৪৪৫ হিজরি৮ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

ভূমি কর্মকর্তা ঘুষের টাকাসহ হাতেনাতে গ্রেপ্তার

দুদকের হাতেগ্রেপ্তার ভূমি কর্মকর্তা আবদুল হান্নান। ছবি-সংগৃহীত।

বাংলা সংবাদ২৪ ডেক্স– বগুড়ার গাবতলী উপজেলার নাড়ুয়ামালা ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয়ের ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে এক কর্মকর্তাকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল রোববার দুপুরে প্রায় তিন ঘণ্টার অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সমন্বিত জেলা কার্যালায় বগুড়ার কর্মকর্তারা।

গ্রেপ্তারকৃত ওই ভূমি কর্মকর্তার নাম আবদুল হান্নান। তিনি নাড়ুয়ামালা ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয়ে সহকারী ভূমি কর্মকর্তা। দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয় বগুড়ার উপ-পরিচালক মোঃ মনিরুজ্জামানের সার্বিক দিক-নির্দেশনায় এবং সহকারী পরিচালক আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে অভিযানে দুদকের পক্ষে আরও উপস্থিত ছিলেন উপ-সহকারী পরিচালক সুদীপ কুমার চৌধুরী ও ওয়াহেদ মঞ্জুর সোহাগ।

দুদক কর্মকর্তারা জানান, গত বুধবার গাবতলী উপজেলার নাড়ুয়ামালা ইউনিয়নের জয়ভোগা গ্রামের বাসিন্দা মতিউর রহমান তাঁর নামীয় ১৬ শতক কৃষি জমির খাজনা দিতে যান। খাজনা দিতে নাড়ুয়ামালা ভূমি কার্যালয়ে গেলে মতিউর রহমাকে বলা হয়, জমির খাজনা ১৪৩ টাকা। পরে এই টাকা জমা দিয়ে তিনি খাজনা দিতে চান। কিন্তু ওই ভূমি কার্যালয়ের কর্মকর্তা আবদুল হান্নান জানান, শুধু ১৪৩ টাকা দিয়ে খাজনা পরিশোধ করা যাবে না অতিরিক্ত আরো ১৩ হাজার টাকা দিতে হবে।

অনেক অনুরোধের পরও হান্নান তার সিদ্ধান্তে অনড় ছিল। ফলে সেদিন খাজনা না দিয়ে মতিউর রহমান ফিরে যান। পরে তিনি বিষয়টি বিস্তারিত উল্লেখ করে গত বৃহস্পতিবার বগুড়া দুদক কার্যালয়ে একটি লিখিত অভিযোগ করেন। যার পরিপ্রেক্ষিতে দুদক কর্মকর্তারা হান্নানকে ধরার জন্য পরিকল্পনা তৈরি করেন।

পরিকল্পনা মতে, রোববার দুপুরে ওই জমির খাজনা দিতে যান মতিউর রহমান। তখন আবদুল হান্নান তার কাছে অতিরিক্ত ১৩ হাজার টাকা দাবি করেন। এই টাকা দিতে চান মতিউর রহমান। এ সময় আবদুল হান্নান ১৪৩ টাকার খাজনা পরিশোধের একটি চেক ধরিয়ে দেন। অতিরিক্ত ১৩ হাজার টাকা দেওয়ার আগে থেকে দুদক কর্মকর্তা ভূমি কার্যালয়ের আশপাশে অবস্থান করছিলেন। এই টাকা ঘুষ গ্রহণের সময় আবদুল হান্নানকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন দুদক বগুড়ার কর্মকর্তারা।

বগুড়া দুদকের সহকারী পরিচালক আমিনুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তারকৃত আবদুল হান্নানের বিরুদ্ধে দুদক কার্যালয়ের দণ্ডবিধি ১৬১ ধারায় এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫ (২) ধারায় ইতোমধ্যে মামলা দায়ের করা হয়েছে।