শনিবার২০শে এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ১১ই শাওয়াল, ১৪৪৫ হিজরি৭ই বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বিয়ের দাবিতে অন্তঃসত্ত্বা দুই প্রেমিকা এক প্রেমিকের বাড়িতে

প্রেমিক বাবু ও তার দুই প্রেমিকা। ছবি: সংগৃহীত।

বাংলা সংবাদ২৪ সংবাদদাতা–রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার সৈয়দপুর মুন্সিপাড়া গ্রামের বিয়ের দাবিতে এক প্রেমিকের বাড়িতে হাজির হয়েছে দুই প্রেমিকা। প্রেমিকের নাম মিজানুর রহমান বাবু।
দুই নারীর একজন ঢাকার একটি গার্মেন্টসের কর্মী। অন্যজন সাভার ইপিজেডে কাজ করেন।

শুক্রবার সকালে ওই দুই নারী ঢাকা থেকে তারাগঞ্জের হারিয়ালকুঠি ইউনিয়নের সৈয়দপুর মুন্সিপাড়া গ্রামে বাবুর বাড়িতে এসে উঠেছেন বিয়ের দাবি নিয়ে।

এ ঘটনায় বাবুর পরিবার ওই নারী দুজনকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। পরে গভীর রাতে এলাকাবাসীর দাবির মুখে বাবুর মা তাদের দুজনকে বাড়িতে তুলতে বাধ্য হন। ওই দুই নারী ঘটনাটি স্থানীয় চেয়ারম্যান এবং থানার ওসিকে জানিয়েছেন। তবে এ ব্যাপারে এখনও কেউ কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করেনি।

সরেজমিনে জানা গেছে, প্রেমিক মিজানুর রহমান বাবু রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার সৈয়দপুর মুন্সিপাড়া এলাকার জহুরুল ইসলামের ছেলে। তিনি ঢাকায় গার্মেন্টসে চাকরি করেন। নিজের দুই ছোট ভাইকে নিয়ে থাকেন ঢাকার আমতলীতে। এরমধ্যে মিজানুর রহমান বাবু এ দুই তরুণীর সঙ্গে প্রেমের কথা বলে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলে। তাদের একজন স্বামী পরিত্যক্তা (২৬) নারী। ওই নারীর বাড়ি জামালপুর জেলার মাদরগঞ্জ উপজেলার চন্নগড়ে।

অপর নারীর বাড়ি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার তালুককানুপুর ইউনিয়নের জামালপুর গ্রামে। থাকেন সাভারের বাইপাইলের আমতলায়।দুজনের সঙ্গেই দীর্ঘ তিন বছর বাবুর সম্পর্ক। স্বামী পরিত্যাক্তা ওই নারীর সঙ্গে আমতলীর মেসে শারীরিক সম্পর্কের সময় এলাকাবাসীর কাছে আটক হয়ে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে রক্ষা পায় বাবু। তবে মেস থেকে বেরিয়ে ওই নারীকে ফেলে গ্রামে পালিয়ে আসে বাবু।

এদিকে বাবুকে খুঁজতে গিয়ে মেসের ওই ঘটনা জানতে পারেন ওই ইপিজেড কর্মীও। এরপর খুঁজে বের করেন বাবুর লালসার শিকার স্বামী পরিত্যাক্তা ওই নারীকেও। তারপর দুজন শুক্রবার সকালে বাবুর বাড়িতে এসে ওঠেন।

এলাকাবাসী জানিয়েছেন, শুক্রবার সকালে দুই প্রেমিকা বাবুর বাড়িতে উঠলে তার বাবা-মা তাদের বাড়ি থেকে বের করে দিয়ে নিজেরা পালিয়ে যায়। বাধ্য হয়ে ওই দুই প্রেমিকা বাড়ির পশ্চিম পাশে আনিছুর মেম্বারের দোকানের সামনে অবস্থান নেয়। রাত সাড়ে ১১টার দিকে তাদের একজনের বাবা ঘটনাস্থলে যান। সেখানে গিয়ে তারা কোনোভাবেই বাবুর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেননি।

এরপর প্রথমে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে বিষয়টি জানান। চেয়ারম্যান তাদের জানান, এটা বিচারের এখতিয়ার তার নেই। থানায় যেতে হবে। পরে থানায় গেলে ওসি বলেন, আপনারা বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা করেন। না হলে আমাদের জানাবেন। কারণ বিষয়টি ধর্ষণ সংক্রান্ত।

স্থানীয় সাবেক ইউপি মেম্বার আনিছার রহমান আনিছ বলেন, ‘একই সঙ্গে দুটি মেয়ে সম্পর্কের দাবি নিয়ে এসেছে। এরমধ্যে একজন অন্তঃসত্ত্বা। কিভাবে সমাধান করা যায়, সেই চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে বাবুর পরিবারের পক্ষ থেকে তেমন সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে না। সমাধান না হলে মেয়ে দুটি আত্মহত্যার হুমকি দিচ্ছে।