বৃহস্পতিবার২৯শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ১৯শে শাবান, ১৪৪৫ হিজরি১৬ই ফাল্গুন, ১৪৩০ বঙ্গাব্দ

শাহরাস্তিতে পুলিশের ভয়ে মরণ ফাঁদে সিস্টেম খোকন

শাহরাস্তিতে দুই বিল্ডিংয়ের চিপায় মরণ ফাঁদে দু ঘন্টা আটকে ছিলেন সিস্টেম খোকন।ছবি সংগৃহীত।

বাংলা সংবাদ২৪ সংবাদদাতা—বৃহস্পতিবার(৯মে) চাঁদপুর জেলার শাহরাস্তি উপজেলায় পুলিশের ধাওয়া খেয়ে আত্মরক্ষার্থে দুই ভবনের চিপায় আটকে সিস্টেম খোকন নামে এক মাদক ব্যবসায়ীর নাজেহাল অবস্থা । রাতের ওই ঘটনায় গোটা এলাকায় হৈ-হুল্লোর পড়ে যায়। চিপায় আটকে পড়া খোকন ওরফে সিস্টেম খোকনকে এক নজর দেখতে ছুটে আসেন কয়েকশ’ নারী-পুরুষ। মাদক বাণিজ্য করায় অনেকে তার বেহাল পরিস্থিতি নিয়ে হাস্যরস করেন। আবার অনেকে তার কষ্টের মুহূর্তে সমবেদনা জানান।

৯মে বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক ১১ টায় শাহরাস্তি উপজেলার উত্তর ঠাকুর বাজারে এ ঘটনা ঘটে। মাদক বিক্রেতা খোকন শাহরাস্তি পৌর শহরের পূর্ব উপলতা কাজী বাড়ির বাসিন্দা।
পুলিশ জানায়, মাদক বেচাকেনার গোপন সংবাদ পেয়ে উত্তর ঠাকুর বাজার এলাকায় অভিযান চালানো হয়।

এ সময় এলাকার চিহ্নিত মাদক বিক্রেতা খোকন ওরফে সিস্টেম খোকন (৫২) পুলিশ দেখে দৌঁড় দেয়। পুলিশও তার পেছনে ছুটতে থাকে। দৌঁড়াতে দৌঁড়াতে ক্লান্ত খোকন দুটি ভবনের মধ্যখানে অন্ধকার সরু জায়গা দেখে ঢুকে পড়ে। খুঁজতে খুঁজতে পুলিশ তার অবস্থান ওই সরু স্থানে আবিস্কার করে। কিন্তু আত্মরক্ষার সেই সরু পথ খোকনের জন্য হয়ে যায় মরণ ফাঁদ।ওই সরু স্থান থেকে কোনোভাবেই বের করা যাচ্ছিল না খোকনকে।

ধীরে ধীরে এ খবর ছড়িয়ে পড়লে জড়ো হতে থাকে এলাকার মানুষ। পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও ছুটে আসেন। প্রায় ঘন্টাখানেক চেষ্টার পরেও তাকে উদ্ধারে ব্যর্থ হয় পুলিশ। এক পর্যায়ে ডাকা হয় ফায়ার সার্ভিসকে। ইতিমধ্যে সিস্টেম খোকনের অবস্থা খারাপ হতে থাকে। প্রচন্ড গরমে ঘামতে থাকে সে। সরু স্থানে বাতাস চলাচলও কম। উদ্ধার চেষ্টার পাশাপাশি পানি এবং কৃত্রিম বাতাস দিয়ে তার জীবন রক্ষার ব্যবস্থা করা হয়।

পুলিশ এবং প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন- প্রায় দেড় ঘন্টা চেষ্টার পরে রাত দেড়টার দিকে একটি ভবনের দেয়াল কেটে বের করা হয় তাকে। এরপর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

চাঁদপুর জেলা পুলিশ সুপার জিহাদুল কবিরের অনুমতিক্রমে অভিযানের নেত্রীত দেন সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ শেখ রাসেল,এ সময় অফিসার ইনচার্জ মোঃ শাহ আলমসহ পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।